- Get link
- X
- Other Apps
- Get link
- X
- Other Apps
আল্লাহ একটি আরবি শব্দ। এটি ইব্রাহিমীয় ধর্মসমূহে সৃষ্টিকর্তা বুঝাতে ব্যবহৃত হয়। বাংলা ভাষায়, শব্দটি সাধারণত ইসলাম ধর্মে স্রষ্টাকে বুঝায়।"আল্লাহ" শব্দটি "আল" ও "ইলাহ" এর সংক্ষিপ্ত রূপের সমন্বয়ে উদ্ভূত বলে মনে করা হয়। এটি ভাষাগতভাবে হিব্রু এবং আরামীয় ভাষায় ঈশ্বরের প্রতিশব্দ "এল" (এলোহিম) ও "এলাহ" এর সাথে সম্পর্কিত।
আরবি ক্যালিগ্রাফিতে 'আল্লাহ' শব্দটি
ইসলাম-পূর্ব সময় থেকে আরবের বিভিন্ন ধর্মের লোকেরা "আল্লাহ" শব্দটি ব্যবহার করে আসছে। সুনির্দিষ্টভাবে, "স্রষ্টা" বুঝাতে মুসলিমগণ (আরব ও অনারব উভয়) ও আরব খ্রিস্টানগণ এই শব্দটি ব্যবহার করে থাকে। বাহাই, মাল্টাবাসী, মিজরাহী ইহুদি এবং শিখ সম্প্রদায়ও "আল্লাহ" শব্দটি ব্যবহার করে থাকে। পশ্চিম মালয়েশিয়ায় খ্রিস্টান ও শিখদের "আল্লাহ" শব্দটির ব্যবহার সম্প্রতি রাজনৈতিক ও আইনগত বিতর্কের সৃষ্টি করেছে।
ব্যুৎপত্তি
আরবি ভাষায় লিখিত "আল্লাহ" নামের অংশসমূহ:
আলিফ
হামযাতুল ওয়াসল
লাম
লাম
তাশদীদ
খাড়া আলিফ
হা'
"আল্লাহ" শব্দটির ব্যুৎপত্তি নিয়ে ধ্রুপদী আরব ভাষাতত্ত্ববিদগণ ব্যাপক আলোচনা করেছেন। বাসরা বিদ্যালয়ের ব্যাকরণবিদগণ এই শব্দটিকে "স্বতঃস্ফূর্তভাবে" গঠিত শব্দ বা "লাহ" (ক্রিয়ামূল "লিহ" থেকে আগত) এর একটি নির্দিষ্ট রূপ হিসেবে বিবেচনা করেন। অন্যরা ধারণা করেন শব্দটি সিরিয়াক বা হিব্রু থেকে এসেছে। কিন্তু বেশিরভাগ ভাষাতত্ত্ববিদ আরবি ভাষার নির্দিষ্ট পদাশ্রিত নির্দেশক "আল" ও "ইলাহ" এই দুটি শব্দের সংক্ষিপ্ত রূপের সমন্বয়ে "আল্লাহ" শব্দটি উদ্ভূত বলে মনে করেন। আধুনিক পণ্ডিতদের অধিকাংশই এই তত্ত্বটি সমর্থন করেন এবং সিরিয়াক বা হিব্রু থেকে আগত হওয়ার ধারণাটি সন্দেহের সাথে দেখেন।
"আল্লাহ" শব্দটির সমজাতীয় (একই মূল বিশিষ্ট) শব্দ হিব্রু ও আরামীয় ভাষাসহ অন্যান্য সেমিটিক ভাষায় বিদ্যমান। শব্দটির আরামীয় রূপ হলো "এলাহ" , কিন্তু নির্দিষ্ট রূপ "এলাহা"। এটি প্রাচীন আরামীয় ভাষায় "এলাহা" ও সিরিয়াক ভাষায় "আলাহা" হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে যা আসিরীয় খ্রিস্টানগণ ব্যবহার করে। কিন্তু উভয় ভাষাতেই এর অর্থ "স্রষ্টা"। প্রাচীন হিব্রু ভাষায় বেশিরভাগ ক্ষেত্রে বহুবচন "এলোহিম" এবং কদাচিৎ একবচন "এলোয়া" ব্যবহৃত হয়েছে।
উচ্চারণ
"আল্লাহ" শব্দের দ্বিতীয় অক্ষর লাম কয়েক ভাবে উচ্চারিত হয়। এই শব্দটির পূর্ববর্তী অক্ষরে যবর বা পেশ থাকলে 'লাম' ভাবগম্ভীর স্বরে উচ্চারিত হয়। আবার যদি পূর্ববর্তী অক্ষরে যের থাকে তাহলে 'লাম' হালকা স্বরে উচ্চারিত হয় (যেমন-বিসমিল্লাহ)।
ইসলাম-পূর্ব আরব
"আল্লাহ" শব্দের আঞ্চলিক রূপগুলো পৌত্তলিক ও খ্রিস্টান উভয়ের ইসলাম-পূর্ব শিলালিপিতে পাওয়া যায়।[৪] ইসলাম-পূর্ব বহুঈশ্বরবাদী ধর্মগুলোতে আল্লাহ সম্পর্কে বিভিন্ন তত্ত্ব প্রস্তাব করা হয়েছে। ইসলামি পণ্ডিত ইবনে কাসিরের মতে, আরব পৌত্তলিকরা আল্লাহকে অদৃশ্য ঈশ্বর এবং মহাবিশ্বের স্রষ্টা ও নিয়ন্ত্রণকারী হিসেবে বিবেচনা করতো। পৌত্তলিকরা বিশ্বাস করতো, যেসব মানুষ বা প্রাণিদের জীবনে সৌভাগ্যজনক ঘটনা ঘটেছিল, সেইসব মানুষ ও প্রাণিদের উপাসনা করলে, তা তাদেরকে ঈশ্বরের আরও কাছে নিয়ে আসবে। ইসলামে আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারো উপাসনা করা (শির্ক) সর্বশ্রেষ্ঠ পাপ হিসেবে গণ্য হয়। কিছু লেখক পরামর্শ দিয়েছেন, বহুঈশ্বরবাদী আরবরা সৃষ্টিকর্তা বা তাদের সর্বোচ্চ দেবতাকে বুঝাতে এই শব্দটি ব্যবহার করতো। কিন্তু একক এবং অদ্বিতীয় ঐশ্বরিক শক্তি হিসেবে নয়। বরং পৃথিবী-সৃষ্টিকারী এবং বৃষ্টি-দানকারী সত্তা হিসেবে। আল্লাহর প্রকৃত স্বরূপ তাদের ধারণায় খুব পরিষ্কার ছিল না। তাদের ধারণা ছিলো যে, আল্লাহর আরও সঙ্গী-সাথী আছে, যাদেরকে তারা অধীনস্থ দেবতা হিসেবে পূজা করতো। তারা আরও ধারণা করতো যে, আল্লাহর সঙ্গে জ্বিনজাতির আত্মীয়তা-ধরনের কোনো সম্পর্ক আছে তারা আল্লাহর পুত্র বলেও সাব্যস্থ করেছিলো এবং তৎকালীন আঞ্চলিক দেবতা লা'ত, উজ্জা, মানাতকে তারা আল্লাহর কন্যা সাব্যস্থ করেছিলো । খুব সম্ভবতঃ, মক্কার আরবরা আল্লাহকে ফেরেশতা বা স্বর্গীয় দূত হিসেবে ধারণা করতো। যার কারণে বিপদগ্রস্ত অবস্থায় তারা আল্লাহ ডাকতো। এমনকি নিজেদের নামকরণেও তারা আব্দুল্লাহ(অর্থাৎ, আল্লাহর বান্দা বা গোলাম) শব্দটি ব্যবহার করতো। উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, মুহাম্মাদের পিতার নাম ছিল ʿAbd-Allāh(عبدالله ) আব্দুল্লাহ'।
ইসলাম
মূল নিবন্ধ: ইসলামে ঈশ্বরের ধারণা
আরও দেখুন: আসমাউল হুসনা
তুরস্কের ইস্তানবুলের হাগিয়া সফিয়ায় একটি মেডেলে "আল্লাহ" শব্দটি লিখিত
তুরস্কের পুরাতন মসজিদের বাইরে "আল্লাহ" শব্দটি লিখিত
ইসলাম
বিষয়ক ধারাবাহিক নিবন্ধের অংশ
বিশ্বাস ও আদর্শ
চর্চা ও জীবনপদ্ধতি
গ্রন্থ ও বিধিবিধান
মুহাম্মাদ ও ইতিহাস
সমাজ ও সংস্কৃতি
অর্থনীতি ও রাজনীতি
সম্প্রদায় ও গোষ্ঠী
সম্পর্কিত বিষয়াবলী
ইসলাম প্রবেশদ্বার
দেস
ইসলামি ধর্মবিশ্বাস অনুযায়ী, "আল্লাহ" হলো একমাত্র প্রশংসাযোগ্য ও সর্বশক্তিমান সত্তার প্রকৃত নাম এবং তার ইচ্ছা ও আদেশসমূহের প্রতি একনিষ্ঠ আনুগত্য প্রদর্শন ইসলামি ধর্মবিশ্বাসের মূলভিত্তি হিসেবে বিবেচিত। "তিনিই একমাত্র উপাস্য, সমগ্র মহাবিশ্বের স্রষ্টা এবং মানবজাতির বিচারক।" "তিনি এক , অদ্বিতীয় , পরম করুণাময় ও সর্বশক্তিমান।" বিচার দিবস পর্যন্ত কোন মানুষের চোখ আল্লাহকে দেখতে পাবে না। ইসলামের পবিত্র ধর্মগ্রন্থ কুরআনে আল্লাহ বাস্তব সত্তা, তার গুণাবলি ও বিভিন্ন নাম, তার সাথে সৃষ্টির সম্পর্ক ও আরও অনেক বিষয় বর্ণিত হয়েছে। আল্লাহ কোন কিছুর উপর নির্ভরশীল নন এবং খ্রীষ্টীয় ত্রিত্বের অংশ নন। আল্লাহর কোন পিতা-মাতা নেই এবং সন্তান নেই।
- Get link
- X
- Other Apps





Comments
Post a Comment